Srobonti Chattopadhyay translated my earlier pieces on NGM into Bengali. I am posting the translation here with her very kind permission.
ননী গোপাল মজুমদার : এক বিস্মৃত স্মৃতিচারণ

দিন দুয়েক আগে হঠাৎই আবিষ্কার করলাম যে পাকিস্তানের সিন্ধ প্রদেশের দাদু জেলায় নাই গজের তীরে একটা N G Majumdar Memorial Point আছে; শুধু তাই নয়, এর পাশে একটা N G Majumdar Memorial Café-ও আছে। এদের গুগল ম্যাপের অবস্থানও পাওয়া গেল নীচের লিঙ্কগুলোতে :
N G Majumdar Memorial Point
https://maps.app.goo.gl/1SFM4dWm7abVqzUQ9
N G Majumdar Memorial Point Café
https://maps.app.goo.gl/xNR17MJUURsnufpJ8
কিন্তু এ কি করে সম্ভব হল? যেটুকু জানতে পেরেছি তাতে, দশ বছরেরও বেশি আগে, ২০১১ সালের ১৬ই জানুয়ারি Dawn সংবাদপত্রে একটি রিপোর্ট বেরোয়, তাতে লেখা ছিল :
রবিবারে রোহেল জি কুণ্ডে প্রখ্যাত প্রত্নতত্ত্ববিদ ননী গোপাল মজুমদারের প্রতি শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করতে এক বড় অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়; এ হল সেই জায়গা যেখানে কচ্ছ অঞ্চলে প্রত্নতাত্ত্বিক অনুসন্ধান চালানোর সময় ১৯৩৮ সালের ১১ই নভেম্বর এক দস্যুর আক্রমণে তিনি নিহত হয়েছিলেন। এই স্থানে একটি ফলক উৎকীর্ণ করা হয়।[1]
আবার ২০১১ সালের ১৭ই জানুয়ারি আগের দিনের অনুষ্ঠানটি সম্পর্কে আরও একটি রিপোর্ট/ চিঠি প্রকাশিত হয় যাতে লেখা ছিল :
১৬ই জানুয়ারি কচ্ছ এক্সপ্লোরেশন, আনিস একাডেমি, এবং সুজাগ সংসার, জোহি একটি সাইনবোর্ডে তাঁর প্রতি কৃতজ্ঞতাসূচক কিছু শব্দ লিখে ৭৩ বছর পর তাঁকে স্মরণ করল। এই কৃতজ্ঞতাসূচক শব্দগুলি হল, “সিন্ধ আপনাকে শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে মনে রাখবে, আর যারা সিন্ধের প্রত্নতত্ত্বে উৎসাহী তাদের জন্য আপনার কাজ পথনির্দেশক হয়ে থাকবে।”[2]
যেখানে তাঁকে হত্যা করা হয়েছিল, সেখানেই এই বোর্ডটি স্থাপন করা হয়। কিছু মানুষের এই উদ্যোগের অংশ হিসেবে সিন্ধ বিশ্ববিদ্যালয়, জামশোরো, শাহ আব্দুল লতিফ বিশ্ববিদ্যালয়, খৈরপুর মিরস এবং করাচি বিশ্ববিদ্যালয়কে ননী গোপাল মজুমদারকে যারা অভিযান এবং বিশেষত প্রত্নতত্ত্বে উৎসাহী তাদের জন্য এখনও পর্যন্ত অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে থাকার জন্য মরণোত্তর ডি লিট সম্মানে ভূষিত করার আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে।[3]
এই রিপোর্টগুলি প্রকাশিত হওয়ার অল্প কিছুকাল আগে অধ্যাপক দীপঙ্কর দাশগুপ্ত টেলিগ্রাফ সংবাদপত্রে (১৯শে অক্টোবর, ২০১০, কলকাতা সংস্করণ) তাঁর শিক্ষক তাপস মজুমদারের ওপর তাঁর প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে একটি প্রবন্ধ লেখেন; সেখানেই আরও অনেক কিছুর মধ্যে এটাও উল্লেখ করেন যে তাপস মজুমদার বিখ্যাত প্রত্নতাত্ত্বিক ননী গোপাল মজুমদারের সুযোগ্য পুত্র। এই রিপোর্টটি প্রত্নতত্ত্ব বিষয়ে সুপণ্ডিত সিন্ধি অধ্যাপক আজিজ কিংরানির চোখে পড়ে। তিনি ননী গোপাল মজুমদারের ব্যাপারে বিশদে খোঁজখবর নিতে অধ্যাপক দাশগুপ্তকে চিঠি লিখলে অধ্যাপক দাশগুপ্ত তাঁকে আমার সঙ্গে যোগাযোগ করিয়ে দেন। এখানে বলে রাখি, আমি ননী গোপাল মজুমদারের দৌহিত্র, তাঁর জ্যেষ্ঠা কন্যার পুত্র। আমরা তখন তাপস মজুমদারকে সদ্য হারিয়ে শোকের আবহে ছিলাম, তার মধ্যেই আমরা ননী গোপাল মজুমদারের সম্পর্কে বিশদে বেশ কিছু তথ্য একত্রিত করে অধ্যাপক কিংরানিকে পাঠাই। ধরে নেওয়া যেতে পারে যে অধ্যাপক কিংরানি এই তথ্যের ওপর ভিত্তি করেই ২০১১ সালের ৩১শে জানুয়ারি Dawn সংবাদপত্রে চিঠি লেখেন এবং এই চিঠির মাধ্যমে এর আগে প্রকাশিত রিপোর্টে ননী গোপাল মজুমদারের জীবনী সংক্রান্ত যা যা ভুল তথ্য ছিল সেগুলিকে শুধরে দেন। তার সঙ্গে তিনি সরাসরি পরামর্শ দেন –
“এই বাঙালী প্রত্নতত্ত্ববিদের প্রতি সম্মান জানাতে, যেখানে তাকে হত্যা করা হয়েছিল সেই স্থানটিতে প্রত্নতত্ত্ব বিভাগ ও সিন্ধ সরকার তাঁর স্মৃতিতে একটি স্মৃতিসৌধ প্রতিষ্ঠা করুক।”[4]
এই স্মৃতিসৌধটি স্থাপিত হয়েছে কি না খোঁজ নিতে সম্প্রতি আমি অধ্যাপক কিংরানিকে চিঠি লিখেছিলাম। এমন তো কত প্রস্তাবই আসে, কিন্তু সবসময় সব কটি বাস্তবায়িত হয় না। কিন্তু প্রবল বিস্ময়ের সঙ্গে জানলাম যে স্মৃতিসৌধটি প্রতিষ্ঠিত হয়েছে তো বটেই, গুগল ম্যাপে তার অবস্থানও নির্দেশ করে দেওয়া হয়েছে!
যখন ভেবে অবাক হচ্ছি এখন এমন কি করে হল এবং অনেকেই জিজ্ঞেস করছে যে কি করে খবর পেলাম, যেহেতু এর মধ্যে আর কোন যোগাযোগ হয় নি, ভাবলাম ব্যাপারটা একটু ছোট করে লিখি। এটাও মনে হয়েছিল যে এই সুযোগে সিন্ধের বর্তমান পরিস্থিতি সম্পর্কে আর একই সঙ্গে ননী গোপাল মজুমদারের কাজ ও কৃতিত্ব সম্পর্কে সকলকে একটু জানানো যেতে পারে। এই ব্যাপারে মূলত দুটি সূত্র থেকে আমি তথ্য পেয়েছি – প্রথমত, দেবলা মিত্র সম্পাদিত Explorations In Art and Archaeology of South Asia, Essays Dedicated to N. G. Majumdar (এর পর থেকে এই বইটিকে Explorations বলেই উল্লেখ করা হবে); এবং দ্বিতীয়ত তাপস মজুমদারের একদম ছোট্ট বেলার স্ক্র্যাপবুকে লেখা তাঁর বাবাকে হারানোর স্মৃতিচারণ থেকে। দুর্ভাগ্যবশত এই স্ক্র্যাপবুকটি এখন খুব খারাপ অবস্থায় রয়েছে, এবং এটিকে অবিলম্বে ডিজিটালাইজ করে নেওয়া প্রয়োজন।
অতীতের কোনও ঘটনাকে বিবৃত করা কঠিন বললে খুব কমই বলা হয়, বরং বেশ বিভ্রান্তিকর কিছু তথ্য পাওয়া যাচ্ছে। প্রথমত, ১৯৩৮ সালে ঠিক কি ঘটেছিল তা বোঝার জন্য এটা খুব গুরুত্বপূর্ণ। ননী গোপাল মজুমদার যখন নিহত হন, তখনও তাঁর বয়স ৪১ পেরোয় নি। দিনটা ছিল ১১/১১/১৯৩৮; মাত্র কয়েক দিন পর ১/১২/১৯৩৮ তারিখে তিনি ৪১ বছর পূর্ণ করতেন। তাঁর শ্বশুরমশাইকে লেখা তাঁর একটি পোস্টকার্ড আমরা পেয়েছিলাম; তাঁর শ্বশুরমশাই ছিলেন সিলেটের এক সরকারী কলেজে সংস্কৃতের অধ্যাপক। পোস্টকার্ডে লেখা চিঠিটি খুব তাড়াহুড়োর মধ্যে লেখা – তাতে লেখা ছিল সব কিছুই ঠিকঠাক আছে, যেমন অনেক চিঠিতেই শ্বশুরমশাইদের লেখা হয়ে থাকে। তিনি এও লিখেছিলেন যে ২৪শে ডিসেম্বর তিনি ফিরবেন! এই চিঠির তারিখ ছিল ৭/১১/১৯৩৮, আর যেটুকু জানা গেছে তাতে এটাই ছিল ননী গোপাল মজুমদারের লেখা শেষ চিঠি।
আপাতভাবে, যখন তিনি তাঁর দলের বাকি সদস্যদের সঙ্গে গভীর মনোযোগে কাজ করে যাচ্ছিলেন, যা তাঁরা জানতে পারেননি তা হল তাঁদের ব্যাপারে তাঁদের উটচালক ও কুলিদের কাছ থেকে খোঁজখবর নেওয়া চলছিল (স্টেটসম্যান, অমৃত ব্যাজার পত্রিকা ১৮/১১/১৯৩৮)। একটি সংবাদ প্রতিবেদন থেকে জানা যায় যে এই কুলি বা উটচালকরা প্রত্নতত্ত্ব কথাটাই উচ্চারণ করতে পারত না, তারা বলেছিল কোষাগার বিভাগের লোকজন ওখানে কাজ করছে; এও জানা যায় যে মাটি খুঁড়ে কি গুপ্তধন বা “খাজানা” পাওয়া গেছে তাও লোকে জিজ্ঞেস করত। ১১/১১/১৯৩৮-এর সকালে হঠাৎ ক্যাম্পে গুলি চলতে শুরু করে; ক্যাম্পের বেশ কিছু লোক বুলেটে আহত হন; ননী গোপাল মজুমদার ছুটে বেরিয়ে গিয়ে সেই ডাকাতদের বোঝানোর চেষ্টা করেন যে তারা ভুল করছে আর এইভাবে তাদের থামাতে গিয়ে তিনি সঙ্গে সঙ্গেই গুলিবিদ্ধ হন। তাঁর সহকর্মীরা যারা অনেক বেশি সাবধানী ছিলেন, তাঁরা তাঁদের তাঁবুর ভেতরেই ছিলেন, তারপর দস্যুরা পাহাড় থেকে নেমে এসে তাঁবুগুলোকে ঘিরে ফেললে তখন তাঁরা বেরোন। কিন্তু ততক্ষণে ননী গোপাল মজুমদারের মৃত্যু হয়েছে। তাঁর সহকর্মীরা প্রাণে বাঁচতে মুসলমান সাজেন এবং একজন অনুগত পিওন চিৎকার করে কলমা পড়তে শুরু করেন যাতে বাকিরা তাঁকে অনুসরণ করে একইভাবে কলমা পড়তে পারেন, আর এভাবে তাঁরা বেঁচেও যান। দস্যুরা তাঁবু লুঠ করে, পাঁচটা উট কেড়ে নিয়ে চলে যায়। এই হাত পা ঠাণ্ডা করে দেওয়া বর্ণনাটি পাওয়া যায় Explorations-এ প্রকাশিত কৃষ্ণ দেবের লেখা “My Last few hours with N G Majumdar” প্রবন্ধে।
ঐ আক্রমণ থেকে যাঁরা বেঁচে ফিরেছিলেন তাঁদের মধ্যে একজন ছিলেন কৃষ্ণ দেব, অর্থাৎ কৃষ্ণ দেব ছিলেন আক্রান্তদের মধ্যে একজন এবং তিনি ছিলেন এই ঘটনার একজন প্রত্যক্ষদর্শী। ইনি পরবর্তীকালে প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের আধিকারিক পদে উন্নীত হন। তাঁর নিজের কথায় তিনি ননী গোপাল মজুমদারের কাছে প্রশিক্ষণ নিচ্ছিলেন। এটা খুব পরিষ্কার বোঝা যায় যে ননী গোপাল মজুমদারের প্রয়োজনের সময় কেউ সাহায্য করতে এগিয়ে আসেন নি, হয়তো তাঁদের নিজেদের জীবন বিপন্ন ছিল বলেই আর সেজন্যই হয়তো তাঁরা মার্জনীয়।
যেকোন সংঘর্ষে দুটি পক্ষ থাকে, আক্রমণকারী এবং আক্রান্ত। প্রথম তথ্য আমরা পাচ্ছি আক্রান্তদের দিক থেকে – পুরোটাই কৃষ্ণ দেবের লেখা সেই প্রবন্ধটি থেকে। যাই হোক, দস্যুরা ঐ তাঁবুগুলো থেকে টাকাপয়সা লুঠ করেই থামে নি, তারা সমানে অস্ত্র আর মাটি খুঁড়ে পাওয়া গুপ্তধনের সন্ধান করে চলেছিল। দস্যুরা তাদের লুঠ করা জিনিসপত্র নিয়ে চলে গেলে পুরো দলের কাছে আর কোন যানবাহন ছিল না। সব উটগুলো লুঠ হয়ে গেছে, এর মধ্যে দলের একজন শ্রীযুক্ত চ্যাটার্জ্জী সাঙ্ঘাতিকভাবে আহত, আর তার ওপর সঙ্গে রয়েছে ননী গোপাল মজুমদারের মৃতদেহ। সেই সার্ভে দলটি তখন ঠিক করল সেই অভিশপ্ত স্থান ছেড়ে তারা প্রায় পাঁচ মাইল দূরে গজ নই ক্যানাল বাংলোতে চলে যাবে। উটের অভাবে উটচালকদের কাজ চলে গিয়েছিল, তাই তাদের সব মালপত্র বয়ে নিয়ে যেতে রাজি করানো হল।
এক মাইলের মধ্যেই এক সশস্ত্র উটবাহিনীর সঙ্গে তাদের দেখা হল, এক ব্রিটিশ পুলিশ সুপারিন্টেণ্ডেন্টের নেতৃত্বে এই উটবাহিনী চলেছিল এবং আপাতভাবে তারা হন্যে হয়ে ঐ দস্যুদলের খোঁজ করছিল। এটাই ঐ সার্ভে দলের সঙ্গে কোন সরকারী দলের প্রথম সাক্ষাৎ এবং ঘটনাটির ব্যাপারে প্রথম রিপোর্টিং। সেই পুলিশ সুপারিণ্টেণ্ড তাঁদেরকে তাঁদের পরিকল্পনা মত বাংলোয় চলে যেতে বললেন এবং কলেক্টর ও সিভিল সার্জনের সঙ্গে যোগাযোগ করার উপদেশ দিলেন। তার পরেই তারা আবার সেই দস্যুদলের পিছু ধাওয়া করতে চলে গেল। কিন্তু এই সার্ভে দলকে তারা কোনরকমভাবে এমনকি দু-একটা উট দিয়েও কোন সাহায্য করে নি। যাই হোক কোনও ভাবে বাংলোয় পৌঁছে সার্ভে দলটির সদস্যরা ঐ পুলিশ সুপারিণ্টেণ্ডের কথামতো ফোনে যোগাযোগ শুরু করলেন। ডেপুটি কালেক্টর ও অ্যাসিস্ট্যাণ্ট সিভিল সার্জন এসে তাঁদের সিভিল হসপিটালে নিয়ে গেলেন।
এই পর্যায়েই প্রাদেশিক ও কেন্দ্রীয় সরকার, দিল্লীতে প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের প্রধান অধিকর্তা এবং মজুমদার পরিবারের মধ্যে আলোচনা হয়। অবশ্য মজুমদার পরিবার থেকে কে এই আলোচনায় অংশ নিয়েছিলেন তা ঠিক পরিষ্কার নয়। তাঁর নিজের পরিবারের কেউই খুব সুসঙ্গত কিছু বলার পরিস্থিতিতে ছিলেন না; তাঁর শ্বশুরমশাই তখনও সিলেটে, কলকাতায় তাঁর ছোট ভগ্নীপতি শ্রী এইচ ব্যানার্জ্জীই এই আলোচনায় অংশ নেওয়ার ক্ষেত্রে সবচেয়ে সম্ভাব্য ব্যক্তি। কিন্তু এঁরা কেউই এখন আর নেই, তাই আমি নিশ্চিত করে কিছু বলতে পারছি না। কিন্তু এই সব আলোচনার পর সিদ্ধান্ত হয়েছিল যে দাদুতেই ননী গোপাল মজুমদারকে হিন্দুমতে সৎকার করা হবে; এবং দাদু-র কালেক্টরের তত্ত্বাবধানে ১২ই নভেম্বর বিকেলে তাঁকে সৎকার করা হয়!
শোনা যায় ১৩ই নভেম্বর শ্রীযুক্ত চ্যাটার্জ্জীর একটি হাত বাদ যায়, এর পর ১৪ তারিখে সেই দলটি ননী গোপাল মজুমদারের চিতাভস্ম নিয়ে সেখান থেকে রওনা দেয়। আরেকটি রিপোর্ট থেকে জানা যাচ্ছে যে এই চিতাভস্ম যখন প্রধান অধিকর্তার হাতে দেওয়া হয়, তখন তিনি ভেঙে পড়েছিলেন। আমি যে যে সূত্র পেয়েছি তা থেকে এটুকুই উদ্ধার করতে পেরেছি। না বলে পারছি না যে এই হোয়াটসঅ্যাপ, ফেসবুক এর ইন্টারনেটের যুগে এর চেয়ে তাড়াতাড়ি কিছু করা সম্ভব হত না। তাহলে অত তাড়াতাড়ি এত কিছু ঘটা ঠিক কিভাবে সম্ভব হয়েছিল?
এবার আসি আক্রমণকারীদের প্রসঙ্গে। শোনা যায় দু’তিন দিন ধরে তারা ঐ অঞ্চলে সমানে তত্ত্বতল্লাশ করছিল। তারা নাকি ঐ উটচালক আর সার্ভে দলের সঙ্গে আসা সহকারীদের জিজ্ঞাসাবাদ করছিল। তাদের জানানো হয়েছিল যে ঐ দলে বাঙালী হিন্দুরা রয়েছে আর তারা মাটি খুঁড়ে গুপ্তধন বের করছে। তাহলে প্রশ্ন থেকে যাচ্ছে যে দস্যুদের আক্রমণের সময় যখন সবাই তাঁবু থেকে বেরিয়ে নিজেদের মুসলিম বলে দাবি করে পিওনের সুরে সুর মিলিয়ে কলমা পড়া শুরু করেছিল তখন দস্যুরা আপত্তি করে নি কেন, যদি তারা জানতই যে এই দল হিন্দুদের? একটা স্ববিরোধিতার জায়গা কিন্তু রয়েই গেল।
১০ই নভেম্বর সন্ধ্যায় ঐ আক্রমণকারী দস্যুরা এক গ্রামে গিয়ে সেখানকার এক ধনী হিন্দু ব্যবসায়ীর বাড়িতে লুঠপাট চালায়, একজনকে মেরেও ফেলে আর প্রচুর টাকা লুঠ করে পালায়; যে পথে তারা ফিরছিল সেই পথেই ছিল এই সার্ভে দলের তাঁবু। ১১ তারিখ সকালে তারা ননী গোপাল মজুমদার ও তাঁর দলের ওপর হামলা চালায়। সেখানে লুঠপাট চালিয়ে তারা তড়িঘড়ি সীমান্ত পেরিয়ে কালাত প্রদেশে পালায়, কারণ এই প্রদেশটি ছিল ব্রিটিশ এখতিয়ারের বাইরে। ঐ ব্রিটিশ পুলিশ সুপারিন্টেণ্ডেন্টের নেতৃত্বে সেই সশস্ত্র উটবাহিনী ঘণ্টা দুয়েক পরে সেখানে এসে পৌঁছেছিল, আর তাছাড়া তারা ঐ দস্যুদলকে ধাওয়া করছিল আগের রাতে সেই ব্যবসায়ীকে খুন করার জন্য।
কালাত প্রদেশের সরকার অবশ্য আশ্বস্ত করেছিল যে ঐ দস্যুদের ধরতে পারলে তাদের ব্রিটিশ সরকারের হাতে প্রত্যর্পণ করা হবে এবং ডিসেম্বরের মাঝামঝি তারা এক মুখোমুখি লড়াইয়ে ঐ দস্যুদলের নেতাকে গুলি করে হত্যা করে ৬ জনকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়। দস্যুদলের বাকিদেরও তাড়াতাড়ি ধরে ফেলার ব্যাপারে কালাতের সরকার বেশ আত্মবিশ্বাসী ছিল। সেই দস্যুরা পরবর্তীকালে ধরা পড়ে, সংখ্যায় তারা ১১ জন ছিল। একটি সূত্র থেকে জানা যায় যে, যে উটগুলোকে দস্যুরা নিয়ে গেছিল, তাদের দুটোর মালিক কোরান হাতে নিয়ে ঐ দস্যুদের খুঁজে বের করে, ঐ উটই যে তার জীবিকার একমাত্র উপায়, কিন্তু বাকি উটগুলোর কি হয়েছিল তা জানা যায় নি। প্রত্যর্পণ পদ্ধতি শুরু হয় এবং শোনা যায় যে ডিসেম্বরের শেষের দিকে ঐ দস্যুদের ব্রিটিশ সরকারের হাতে প্রত্যর্পণ করার পর দাদু-র ‘হুজুর মুখতিয়ারকার’-এ এদের বিচার শুরু হওয়ার কথা ছিল। আদালতে তারা জানায় যে ঐ তাঁবুটা যে কোন পণ্ডিত ব্যক্তির ছিল তা তারা জানত না। এই বিচারটা বোধ হয় ১৯৩৯ সালে হয়েছিল, কিন্তু মামার কাছে যেটুকু শুনেছিলাম, তার বাইরে এ ব্যাপারে আমার কাছে আর কোনও তথ্য নেই। যদি সঠিক মনে করতে পারি, তাহলে ঐ দস্যুদের যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের সাজা হয়েছিল। মনে পড়ে একবার মামাকে দুঃখ করে বলতে শুনেছিলাম যে ১৪ বছর কেটে গেছে, এতদিনে দস্যুগুলো ছাড়া পেয়ে হয়তো স্বাধীন জীবন কাটাচ্ছে।
মাস ছয়েকের মধ্যে নিশ্চয়ই সব ঠিকঠাক হয়ে গিয়েছিল – দলনেতা গুলিতে নিহত, বাকি দস্যুরা গরাদের পেছনে। সরকারের প্রবল আত্মপ্রশংসা করার সম্পূর্ণ কারণ ছিল। কিন্তু ননী গোপাল মজুমাদারের পরিবারের কি হল? কি হল শ্রীযুক্ত চ্যাটার্জ্জীর যাঁর একটা হাত বাদ গিয়েছিল? সরকার তো আর সমস্ত কিছুর দায়িত্ব নিতে পারে না তাই না! কিন্তু সুবিচার কি সত্যিই হয়েছিল?
শোনা যায় সরকারকেও এই মর্মান্তিক ঘটনার জন্য দায়ী করা হয়েছিল, সরকারের তরফে সেখানে যথেষ্ট নিরাপত্তারক্ষীর ব্যবস্থা করা হয় নি। ক্ষতিপূরণ নিয়ে অঙ্ক কষা চলছিল, কিন্তু আমার দিদিমার খুব স্পষ্ট মতামত ছিল, সরকারকে তিনি এই ঘটনার জন্য দায়ী মনে করেছিলেন আর সেই রাগে দুঃখে তিনি সেই সরকারের দেওয়া এক পয়সাও ছুঁতে রাজি ছিলেন না। ক্ষতিপূরণ বাবদ তাঁর প্রত্যেক সন্তানের জন্য ১০০ টাকা আর তাঁর জন্য ৬০০ টাকা ধার্য করা হয়েছিল, ননী গোপাল মজুমদারের পুত্রবধূর মতে যতদূর তিনি মনে করতে পারেন এই অঙ্কের ক্ষতিপূরণই ধার্য হয়েছিল, তাঁর শ্বাশুড়িমা, অর্থাৎ আমার দিদিমা, তাঁকে এই অঙ্কের টাকার কথাই বলেছিলেন। এই অঙ্কের টাকা কি কখনও সংসারের একমাত্র উপার্জনকারীর অভাব মেটাতে পারে? সৌভাগ্যবশত আমার দিদিমার মা-বাবা তখনও খুব কর্মক্ষম ছিলেন এবং তাঁরা ঐ পুরো পরিবারের দায়িত্ব কাঁধে তুলে নিয়েছিলেন। দিদিমার মা কিরণবালা ছিলেন খুব শক্ত ধাতের মহিলা, সামনে যে বাধাই আসুক না কেন তিনি মোকাবিলা করার জন্য সদা প্রস্তুত ছিলেন। তিনি প্রথম যে ব্যাপারে জোর দেন তা হল আমার দিদিমাকে আবার পড়াশোনা শুরু করানো। যে সময় দিদিমা বিধবা হন, তখন তিনি কেবল ম্যাট্রিক পাশ ছিলেন, অর্থাৎ কেবল মাত্র স্কুলশিক্ষা পাওয়া। তিনি আবার পড়াশোনা শুরু করে, তাঁর মেয়ে অর্থাৎ আমার মায়ের সঙ্গে একই বছরে স্নাতক স্তরের পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন।
ননী গোপাল মজুমদারের মৃত্যুর পর বাংলার প্রত্নতত্ত্বের অপূরণীয় ক্ষতি নিয়ে অনেক আলোচনা শুরু হয়, মান্যগণ্য ব্যক্তিরা খুব সম্মানীয় সব জায়গায় নানা আলোচনা সভার আয়োজন করতে থাকেন। তাঁর প্রতি সম্মান জ্ঞাপন করতে করতে কলকাতা যাদুঘর একদিন বন্ধ রাখা হয়।
ননী গোপাল মজুমদারের কথা বলতে গেলে কেবলমাত্র তাঁর কাজের পরিমাণ দেখলেই হবে না, কাজের গুণগত মান এবং তার প্রভাবও সমান গুরুত্বপূর্ণ। পেনসিলভানিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক গ্রেগরি পশেল Explorations-এ লিখেছেন, “ননী গোপাল মজুমদার সিন্ধু সভ্যতার আদি ইতিহাস গবেষণার সঙ্গে যুক্ত সবচেয়ে বড় প্রত্নতাত্ত্বিকদের মধ্যে একজন ছিলেন। ঝুকার, আমরি, চাহ্নু দারো এবং আরও অনেক জায়গায় তাঁর প্রত্নতাত্ত্বিক খনন আদি সিন্ধু সভ্যতার সাংস্কৃতিক ইতিহাস বোঝার ক্ষেত্রে এক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ মৌলিক অবদান… “[5]। নিউ ইয়র্কের CUNY এর লেম্যান কলেজের নৃতত্ত্বের অধ্যাপক ল্যুই ফ্ল্যাম আরও মুক্তকন্ঠে ননী গোপাল মজুমদারের প্রশংসা করেছেন ঐ Explorations-এই । তিনি লিখেছেন ১৯২৫ সাল থেকে ননী গোপাল মজুমদার মহেঞ্জোদারোতে প্রত্নতাত্ত্বিক খননের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন, আর ‘১৯২৭-২৮ সালে একটি ছোট অঙ্কের অর্থ মঞ্জুরি সমেত মহেঞ্জোদারো থেকে মাত্র ২৭ কিলোমিটার দূরে (কাকের ওড়ার গতিপথ অনুযায়ী) ঝুকারে খননের দায়িত্ব পান’। এখানে ননী গোপাল মজুমদার যে কেবলমাত্র মহেঞ্জোদারোর মত একই সভ্যতার সংস্কৃতির, যাকে আমরা “সিন্ধু সংস্কৃতি” নামে জানি, চিহ্ন আবিষ্কার করেন তাই নয়, সেই সঙ্গে পরবর্তী সিন্ধু সভ্যতার সংস্কৃতির চিহ্নও খুঁজে পান, যাকে তিনি নাম দেন ‘ঝুকার সংস্কৃতি’[6]। সিন্ধ অঞ্চলে সিন্ধু নদীর প্লাবনভূমিতে আরও প্রত্নতাত্ত্বিক খনন চালানোর জন্য ননী গোপাল মজুমদার অর্থ মঞ্জুরির আবেদন জানিয়েছিলেন। তাঁর আবেদন মঞ্জুর হওয়ায় উৎসাহিত হয়ে ননী গোপাল মজুমদার ১৯৩০ সালে আমরি, চাহ্নু দারো এবং আরও বেশ কয়েকটি জায়গায় প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন আবিষ্কার করেন। আমরি আবিষ্কার ছিল তাঁর কাছে হোলি গ্রেলের মত, যাকে তিনি অক্লান্ত ভাবে খুঁজেছিলেন। আর তার সন্ধান পাওয়ার পর তিনি কত খুশি হয়েছিলেন তা Explorations-এ তাঁর ছেলের লেখা থেকে জানা যায়। আমরি সম্পর্কে অধ্যাপক ফ্ল্যাম মন্তব্য করেছেন, “এমন কিছু বৃত্তির সন্ধান তিনি পান যা সিন্ধু সভ্যতার আগে প্রচলিত ছিল, সেগুলোকে মজুমদার ‘আমরি সংস্কৃতি’ নামকরণ করেন।”[7]
যারা প্রত্নতাত্ত্বিক খননের সঙ্গে যুক্ত ছিল, তাদের মতে ঠিক কোন জায়গায় খনন করা হবে এটা খুঁজে বের করা ছিল এক দুরূহ কাজ, কারণ প্রথমত চারিদিকে অজস্র বালির ঢিবি ছিল আর দ্বিতীয়ত মাটির নীচে কি রয়েছে বোঝার মত প্রযুক্তি তাদের হাতে বলতে গেলে কিছুই ছিল না। কেবলমাত্র যেটুকু তথ্য হাতে ছিল তার সঠিক পদ্ধতিগত বিশ্লেষণ আর তার মাধ্যমে সঠিক সিদ্ধান্তে পৌঁছনোই ছিল একমাত্র উপায়। তবু এমন অনেক দিন গেছে যখন ননী গোপাল মজুমদার কিছুই খুঁজে পান নি। এ ব্যাপারে ননী গোপাল মজুমদারের প্রশংসায় কৃষ্ণ দেবের Explorations-এ লেখা প্রবন্ধটি দ্রষ্টব্য যেখানে তিনি বর্ণনা করেছেন অতীতকে খুঁজে পাওয়ার পথ তিনি কিভাবে ননী গোপাল মজুমদারের কাছে শিখেছিলেন। কৃষ্ণ দেব লিখেছেন, “এভাবে মজুমদার তাঁর সংগ্রহ করা এবং বিশ্লেষণ করা প্রমাণাদির ভিত্তিতে চাল্কোলিথিক সিন্ধের একটা বিরাট ছবি তুলে ধরেছিলেন, নিঃসন্দেহে তাঁর গভীর পর্যবেক্ষণ এবং অসম্ভব বিশ্লেষণাত্মক মন দিয়ে। তিনি তাঁর আমরি আবিষ্কারের সুদূরপ্রসারী তাৎপর্য এবং ইরান, সেইস্তান, বালুচিস্তান এবং সিন্ধু উপত্যকার চাল্কোলিথিক সংস্কৃতির বৃহত্তর প্রশ্নের সঙ্গে এর সম্পর্কটি উপলব্ধি করেছিলেন।”[8] তিনি মজুমদারের Explorations in Sind থেকে বারবার উদ্ধৃতি দিয়েছেন তাঁর বক্তব্যের সমর্থনে। এক মর্মস্পর্শী বিবরণে কৃষ্ণ দেব লিখেছেন, “মজুমদার ৭ বছর বিরতির পর আবার ১৯৩৮ সালে সিন্ধু অঞ্চলে অভিযান শুরু করেন এবং কিরথর পাহাড়ের পাদদেশে সার্ভের কাজ চালিয়ে যেতে থাকেন… তিনি যে আগে থেকে অনেক ভাবনাচিন্তা করে তবেই এই সার্ভেটির পরিকল্পনা করেছিলেন, মাত্র তিন সপ্তাহে গোটা ছয়েক চাল্কোলিথিক আবিষ্কার করাই তা নির্দেশ করে, যার মধ্যে রোহেল-জি-কুণ্ডের সাইটটিও ছিল যেখানে তাঁকে হত্যা করা হয়েছিল…।”[9]
ননী গোপাল মজুমদারের সমস্ত প্রকাশিত লেখা (Explorations-এ মল্লার মিত্রর প্রবন্ধে পাওয়া সূত্র অনুযায়ী) মিলে মোট ৫টি বই ও অজস্র প্রবন্ধ আছে। এই পাঁচটি বইয়ের মধ্যে সবচেয়ে সুপরিচিত বইটি হল Inscriptions of Bengal তৃতীয় খণ্ড (প্রথম ও দ্বিতীয় খণ্ড লেখা এখনও বাকি রওয়ে গেছে) এবং Explorations in Sind, যেটা ১৯২৭-২৮, ১৯২৯-৩০ এবং ১৯৩০-৩১ সালে করা অনুসন্ধানমূলক সার্ভের ওপর একটি রিপোর্ট, Memoirs of Archaeological Survey of India No. 48 এবং Guide to Sculptures in Indian Museum এর দুই খণ্ড। তাঁর প্রায় ৬৫টি প্রবন্ধের তালিকা পাওয়া যায় যারা আবার বিভিন্ন অংশে বিভক্ত:
১। প্রত্নতত্ত্ব : খনন, অনুসন্ধান এবং সংরক্ষণ
২। এপিগ্রাফি
৩। সংখ্যাবিদ্যা (Numismatics)
৪। আর্ট এবং আইকনোগ্রাফি
৫। মিউজিয়াম নোটস এবং অবশিষ্ট
৬। বিবিধ
এই প্রতিটি অংশেই বহুসংখ্যক লেখা রয়েছে। কেউ সারা জীবনে এত কাজ করে থাকলে তাঁকে অবশ্যই অসামান্য পণ্ডিত বলে মানা হবে; আর যাঁর জীবন খুব স্বল্পকালের মধ্যেই হঠাৎ থেমে গিয়েছিল, তাঁর পক্ষে তো এ রীতিমতো বিস্ময়কর, এবং এমন আর কাউকে পাওয়া প্রায় অসম্ভব।
সিন্ধের বিদ্বজ্জনেরা ননী গোপাল মজুমদারের প্রয়াণের ৭৩ বছর পর জেগে উঠে এই মহান মানুষটির অবদানের কথা স্মরণ করেছেন। আর আমরা ভারতবাসীরা তাঁর কাজের তাৎপর্য বোঝাতে মাত্র এক খণ্ড Explorations প্রকাশ করেই ক্ষান্ত হয়েছি। এ কি সত্যিই যথেষ্ট?
মূল সূত্র :
অনুবাদ : স্রবন্তী চট্টোপাধ্যায়
[1] A ceremony was held on Sunday to pay tribute to renowned archaeologist Nani Gopal Majumdar at Rohel Ji Kund where he had been killed by a robber while he was doing excavation work in the Kachho area on Nov 11, 1938. A plaque was installed at the place.
[2] On Jan 16 Kacho Exploration, Anees Academy and Sujag Sansar, Johi, remembered him after 73 years by inscribing words of gratitude on the signboard. These words are: ‘Sindh would remember you for centuries, and your work would be a guiding principle for those who are interested in archaeology of Sindh’.
[3] This initiative by some individuals invites Sindh University, Jamshoro, and Shah Abdul Latif University, Khairpur Mirs, and Karachi University to award posthumous honorary degree of doctorate in literature to N.G. Majumdar, who is still a source of inspiration for explorers, especially who are interested in archaeology.
[4] “It is suggested that the department of archaeology and the government of Sindh should build a cenotaph at the place where he was assassinated to pay tribute to the archaeologist from Bengal”.
[5] “N. G. Majumdar was one of the great archaeologists to have been a part of the early history of research on the Indus Civilisation. His excavations at Jhukar, Amri, Chanhu-daro and many other places were seminal contributions to the understanding of the cultural history of early Sind. …”.
[6] “1927-28 received a small grant to excavate at the site of Jhukar which was only 27 km (as the crow flies) from Mohenjodaro”.
[7] “revealed an occupation which was pre-Indus occupation which Majumdar called the Amri Culture”.
[8] “Majumdar thus presented as comprehensive a picture of Chalcolithic Sind as was possible with the evidence he collected and interpreted, certainly with keen observation and a highly analytical mind. He realised the far-reaching implications of his discovery of Amri and its bearing on the wider question of the relationship between Chalcolithic cultures of Iran, Seistan, Baluchistan, and the Indus Valley”.
[9] “Majumdar resumed his Explorations in Sind after a gap of 7 years in 1938 and surveyed the foothills of the Kirthar Range…That he exercised great forethought in planning his survey is indicated by the fact that he discovered in a short space of three weeks some half a dozen Chalcolithic sites including the site of Rohel-ji-kund where he was killed…”.